
-আবু আবদুল্লাহ
হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। নবী কারীম সা. বলেছেন, সাত প্রকার লোককে আল্লাহ তা’আলা (কিয়ামতের দিন) তাঁর আরশের ছায়ায় স্থান দান করবেন। সেদিন আরশের ছায়া ব্যতীত আর কোন ছায়া থাকবে না।
১. ন্যায়পরায়ণ শাসক।
২. ঐ যুবক যে তার যৌবনকাল আল্লাহর ইবাদতে কাটিয়েছে।
৩. এমন ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত থাকে, একবার মসজিদ থেকে বের হলে পুনরায় প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত ব্যাকুল থাকে ।
৪. এমন দু’ব্যক্তি যারা কেবল আল্লাহর মহব্বতে পরস্পর মিলিত হয় এবং পৃথক হয়।
৫. যে ব্যক্তি নির্জনে আল্লাহর ভয়ে অশ্রু ঝরায়।
৬. যে ব্যক্তিকে কোন সম্ভ্রান্ত বংশের সুন্দরী রমণী ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার আহ্বান জানায় আর ঐ ব্যক্তি শুধু আল্লাহর ভয়েই বিরত থাকে।
৭. যে ব্যক্তি এত গোপনে দান করে যে তার ডান হাত কী দান করলো বাম হাতও জানে না। (বুখারী-মুসলিম)
ওলামায়ে কিরামের নিকট হাদিসটির মর্যাদা:
আরশের ছায়া সম্পর্কিত এমন সংখ্যক হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যা মুতাওয়াতিরের পর্যায়ে পৌঁছে। আমলের ফজিলতের ক্ষেত্রে বর্ণিত হাদিসসমূহের মধ্যে এই হাদিসটি সর্বাপেক্ষা উত্তম, ব্যাপক ও বিশুদ্ধ।
উক্ত হাদিসে আরশের নিচে ছায়া পাওয়ার অনেকগুলো আমলের কথা বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্য থেকে এখানে মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত অন্তর’ এ নিয়ে সামান্য আলোকপাত করা হবে ইনশাআল্লাহ।
মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত অন্তর:
হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি সকাল বা বিকালে যতবার মসজিদে যায়, আল্লাহ তা’আলা তার জন্য জান্নাতে ততবার মেহমানদারীর আয়োজন করেন। (বুখারি শরিফ)
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত কোন মানুষকে দেখ যে, মসজিদের সাথে তার সম্পর্ক আছে, মসজিদের খেদমত এবং তার দেখাশোনা করে, তোমরা তার ঈমানের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিতে পার। কেননা আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, নিশ্চয়ই মসজিদ আবাদ করে ঐ সমস্ত ব্যক্তি যারা আল্লাহ এবং পরকালের ওপর বিশ্বাস রাখে। (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ)
বর্ণিত আছে যে, মসজিদে মুমিনের অবস্থান পানিতে মাছের অবস্থানের মতো, আর মসজিদে মুনাফিকের অবস্থান খাঁচায় পাখির অবস্থান করার মতো। হযরত আবুদ দারদা রা. তার ছেলেকে লক্ষ্য করে বলেন, হে প্রিয় বৎস! মসজিদই হবে তোমার ঘর। আমি রাসুল সা.কে বলতে শুনেছি, নিশ্চয় মসজিদসমূহ হচ্ছে মুত্তাকিদের (আল্লাহভীরুদের) ঘরস্বরূপ। আর মসজিদ যার ঘর হবে আল্লাহ তা’আলা তার জন্য প্রশান্তি, করুণা ও পুলসিরাত পার হয়ে জান্নাতে যাওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
আল্লাহর নিকট পৃথিবীর সর্বোত্তম স্থান হল মসজিদসমূহ:
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “আল্লাহর নিকট সবচেয় পছন্দনীয় স্থান হচ্ছে মসজিদসমূহ। আর তার নিকট সবচেয়ে অপছন্দনীয় স্থান হচ্ছে বাজারসমূহ।” (সহিহ মুসলিম)
মসজিদে গমনকারীর জন্য প্রতিটি পদক্ষেপে একটি করে সাওয়াব দেয়া হয় এবং একটি করে পাপ মোচন হয়:
মহানবী সা. বলেন: যে ব্যক্তি জামাতে নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে মসজিদে গমন করে, তার প্রতিটি পদক্ষেপে একটি করে পাপ মোচন হয়, দ্বিতীয় পদক্ষেপে একটি সাওয়াব লিপিবদ্ধ হয়। মসজিদে গমন এবং প্রত্যাবর্তন উভয় অবস্থায় এই প্রতিদান পাওয়া যায়। (আহমদ ও ত্ববরানী)
মসজিদের সাথে অন্তরের সম্পৃক্ততার আলামত:
১. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে পড়তে অধিক আগ্রহী হওয়া।
২. ফজরের পর সালাতুদ দোহা পর্যন্ত। নিজস্ব নামাজের স্থানে বসে অপেক্ষা করা।
৩. প্রথম তাকবির (তাকবিরে উলা) এর সাথে জামাতে অংশগ্রহণ করা।
৪. মসজিদে প্রবেশ করা মাত্র: সালাতুত তাহিয়্যাহ পড়া।
৫. বিপদসংকুল অবস্থাতেও মসজিদে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করা।
৬. নামাজের সময়ের আগেই মসজিদে গিয়ে অপেক্ষা করা।
৭. মসজিদে প্রবেশ করলেই দু’রাকাত নামাজ পড়া সুন্নাত, এ নামাজকে সালাতুত তাহিয়্যাহ বলা হয়।
৮ এক নামাজের পর অপর নামাজের জন্য অপেক্ষা করা।
৯. প্রথম সারিতে এবং ইমামের ডান পার্শ্বে দাঁড়ানো।
১০. বিশেষ কাজে ফজরের পর মসজিদ থেকে বের হয়ে গেলে পুনরায় সালাতুদ দোহা আদায়ের জন্য মসজিদে যাওয়া।
যাদের হৃদয় মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত তাঁরা কেমন ছিলেন:
সাঈদ ইবনে মুসাইয়িব রা. বলেন, চল্লিশ বছর যাবত আমি জামাত বর্জন করিনি। নাফে রহ. বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. যদি কখনও জামাতে এশার নামাজ পড়তে না পারতেন তাহলে বাকি পুরো রাত জাগ্রত থেকে ইবাদত করতেন।